দ্বিধা অধ্যায় ১
দ্বিধা প্রচ্ছদ

দ্বিধা

Lutfe Habib

মিম নিজের চুল সামনে নিয়ে আসতেই দেখে চুলে চুইংাম লাগানো তাও লাগাইছে চুলের একেবারে মাজখানে। মিম ভূত দেখার মত চিল্লায়ে উঠল।চুল গুলা অর অনেক প্রিয়। যায়গাটা নীর্জন প্রায়। কেও আসেনা। মিম ঘুরতেছিল আর নুফতি অর ব্যাগ আনতে গেছিলো। রাগে অভীমানে মিম শুরু করল...

পড়া শুরু করতে বাঁয়ে সোয়াইপ করো →

#দ্বিধা- তাবাস্সুম রিয়ানা

-কি ভাবছো (আরহান)?
-নাহ কিছুনা। নাস্তা করে নিন।মাকে ফোন করে ইনায়া কে পাঠিয়ে দিতে বলি(মাহিরা)।
-আমরা এখন থানায় যাবো।বিকেলে আসুক ইনায়া (আরহান)
-ওকে। নাস্তা করে নিন (মাহিরা)।
-তুমি ও খেয়ে নাও। আমরা একটু পর বের হবো।
-ওকে। নাস্তা করে রুমে চলে এলাম। সাদা একটি স্যালোয়ার কামিজ পরে হালকা গোলাপি বর্নের লিপস্টিক লাগিয়ে চুল গুলোকে ছেড়ে দিলাম।
-মাহিরা হয়েছে (মাহিরা কে দেখে আরহান থমকে গেল)। সাদা পরী লাগছে মাহিরাকে। ধীর পায়ে মাহিরার কাছে এসে দাড়ালো আরহান। মাহিরার একটি গালে খুব আস্তে করে হাত ছোঁয়ালো। কপালের চুল গুলো সরিয়ে আলতো করে চুমো একেঁ দিলো।
-মাহিরা চোখ খিচে বন্ধ করে আছে। পুরো শরীর কাঁপছে ওর।
-চলো।দেরি হয়ে যাচ্ছে (মুচকি হেসে)
-আরহানের কথায় চোখ খুলল মাহিরা। হুম চলুন। দুজনো বেরিয়ে গাড়িতে উঠে বসলো।
-গাড়ির ছোট্ট গ্লাসটি দিয়ে মাহিরাকে দেখছে আরহান। মাহিরার বারবার হাত দিয়ে চুল সরানোরর কাজটি বেশ আনন্দ দিচ্ছে আরহানকে। হঠাৎ মাহিরার তাকানোয় চোখ সরিয়ে নেয় আরহান।
-মাহিরা মুচকি হেসে জানালার দিকে চোখ নিলো।কালকের কথা মনে পড়তেই মুখে একরাশ লজ্জা এসে পড়লো মাহিরার।
-নামো (আরহান)
-আমি কি কিছু করেছি? (মাহিরা)
-কিছু করোনি। তবু ও নামো।
-পাশে তাকিয়ে দেখে ওরা এসে পড়েছে। কিছু না বলে নেমে পড়লো মাহিরা। থানায় ঢুকতেই আশফি ওদের সামনে এসে দাড়ালো।
-মাহিরার গলার নিচের ছোট্ট লাভবাইটটা আশফির চোখে পড়লো।
-মাহিরা নিচে তাকিয়ে সেটাকে ঢাকার চেষ্টা করছে। আশফির দিকে তাকাতে ভয় পাচ্ছে ও।
-আশফি নীল কোথায়? (আরহান)
-চল আমার সাথে (আশফি)।
-মাহিরার হাত ধরে আশফির পিছু নিলাম।একটি জেলে নীলকে আটকে রাখা হয়েছে। নীল শুয়ে ছিল।আমাদের দেখে উঠে এলো। হায় মিঃ আরহান আর মিসেস মাহিরা আরহান শেখ।
-কি লাভ হয়েছে এতো কিছু করার পর নীল রাগী গলায় বলে উঠলো আরহান।
-লাভ হতো যদি আরহান নামের এই কাঁটা আমার রাস্তায় না আসতো।
-তোমাকে যে কি শাস্তি দিবো নীল তুমি কল্পনাও করতে পারবেনা (রাগি গলায়)
-ওহ ভয় পেয়ে গেছি মিঃ আরহান (মজার ছলে)
-আশফি ভাই আমি কি একটু ভিতরে ঢুকতে পারবো জ্বলজ্বলে চোখে মাহিরা বলল। ওর চোখের ভিতর রাগ ঘৃনা বাবা হারানোর কষ্ট আশফি বুঝে নিলো। কতো কষ্ট হয়েছে মাহিরার সেটা কেউই বুঝতে পারবেনা একমাত্র মাহিরা ছাড়া।
-যান ভাবি (দরজা খুলে দিয়ে)
-মাহিরার কাঁধে হাত রাখলো আরহান। সব ঠিক হয়ে যাবে।
-আরহানের দিকে তাকিয়ে ওর হাতের ওপর হাত রাখলো মাহিরা। জেলের ভিতর ঢুকে কষে চড় দিলো নীলকে। শার্টের কলার চেপে ধরলো কেন মেরেছিস বাবাকে? কি দোষ ছিল ওনার? দোষ তো আমার ছিল আমাকে মারতি। বাবা হাঁটতে পারতোনা হুইল চেয়ারে চলা ফেরা করতো এটার সুযোগ নিয়েছিস। তুই তো জানোয়ার। বাবা কে মেরে ও ক্ষান্ত হসনি আরহানকে মারতে চেয়েছিলি।কি লাভ হয়েছিলো তোর?অনবরত থাপড়াতে লাগলো মাহিরা নীলকে। কাঁদছে মাহিরা। ওর চোখের সামনে বাবার সাথে কাঁটানো বেস্ট সময় গুলো ভাসছে।
-আরহান জলদি যেয়ে মাহিরাকে পিছন থেকে ধরলো। মাহিরা চলো।
-এখন সারাজীবন জেলে থাক। আর প্লান কাকে খুন করবি? চিৎকার করে বলল মাহিরা।
-আরহান বের করে আনলো মাহিরাকে। কাঁদছে মাহিরা। আশফি থ্যাংকস এ লট দোস্ত।
-হুম। দায়িত্ব ছিলো আমার প্লিজ থ্যাংকস বলে ছোট করিসনা। মাহিরার চোখের পানি আশফির বুকে কাঁটার খোঁচার মতো লাগছে।
-আশফি ভাই আপনাকে অনেক ধন্যবাদ (মাহিরা)
-ওয়েলকাম (আশফি)।
-মাহিরা চলো (আরহান)।
-দুজনে বেরিয়ে এলো। মাহিরার কান্না থামছেইনা।
-আরহান বুকে জড়িয়ে নিলো মাহিরাকে।প্লিজ কেঁদোনা।
-কেন মারলো বাবাকে? কি দোষ ছিলো বাবার? বাবাতো আমার সুখ চেয়েছিলেন। এটাই তার কাল হলো।বাবা আমার বেঁচে থাকার অন্যতম কারন ছিলো। আপনাকে ও মারতে চেয়েছে ও কেন? কেন করলো এসব? (কাঁদতে কাঁদতে)
-ওর ন্যায্য শাস্তি ও পাবে মাহিরা। মাহিরার কপালে চুমো দিয়ে নিজের বুকের সাথে চেপে ধরলো আরহান।
-কিছুক্ষণ পর সরে এসে চোখের পানি মুছলো মাহিরা।
-মাহিরার মাথায় আলতো করে হাত বুলিয়ে দিলো আরহান। পাশেই একটা পার্ক আছে চলো যাই।
-চলুন।
-লেকের পাশে বসে আছে পাশাপাশি আরহান আর মাহিরা।আশেপাশে তাকিয়ে মাহিরার হাতের ওপর হাত রাখলো আরহান।
-হাতের ছোঁয়া আরহানের দিকে তাকায় মাহিরা।
-এই তোমার গলায় কি হয়েছে(চিন্তিত হয়ে)?
-কই নাতো কিছুনা(উড়না দিয়ে ঢেকে)।
-লাল হয়ে আছে কেন?
-পোকা কামড় দিয়েছে।
-পোকা???(আরহান)
-হুম।
-ওহ।ঘরে গিয়ে মলম লাগিয়ে নিও নাহলে ইনফেকশন হয়ে যাবে(আরহান)।
-অবাক দৃষ্টিতে আরহান কে দেখছে মাহিরা।(এত বোকা কেন উনি?বুঝতে পারছেন না এটা ওনার কামড়ের দাগ?)
-এভাবে তাকিয়ে আছো কেন?(আরহান)
-কিছুনা।চলুন ইনায়া কে নিয়ে ঘরে যাই।
-হুম চলো।

দ্বিধা
তাবাস্সুম রিয়ানা
৩২
-কেবিনে এসে টেবিলের জোরে ব্যাগ রাখলো মাহিরা।মাথা জ্বলছে ওর।কারন টা জানা নেই।
-মাম্মা কি হয়েছে?(ইনায়া)
-ইনায়ার কথায় ঘোর ভাঙ্গলো মাহিরার।না মামনি কিছুনা।খাবে কিছু?(মাহিরা)
-না।
-খিদে লাগেনি?(মাহিরা)
-না মাম্মা।
-ওকে।বসে থাকো।মাম্মা কাজ করি।
-ওকে।
-আরহানের কেবিনের দিকে চোখ যাচ্ছে মাহিরার।(কে জানে কি করছে আরহান?আর ওই কি নাম যেন অনামিকা না টনামিকা কি করছে ঐখানে?যা ইচ্ছে করুক আমার কি?)লাঞ্চ টাইম হয়ে এলো তবু আরহানের আসার নাম নেই।একবার কি যেয়ে দেখে আসবো?
-আরে জানোনা নুহাশ অনেক বদলে গেছে।কিন্তু ওর লুচ্চামি টা আগের মতোই আছে(আরহান)।
-সত্যি???(অনামিকা) হাহাহাহা
-হা হা হা।দরজা খোলার শব্দ পেয়ে সামনে তাকাতেই দেখি মাহিরা দাড়িয়ে আছে।আরে মাহিরা তুমি?
-(আমি এসেছি এতো অবাক হওয়ার কি আছে?মনে হয় অসময়ে দেখে ফেলেছে এমন ভান করছে)স্যার লাঞ্চ টাইম হয়ে গেল।
-ওহ।মাথা থেকে সরে গেছে।সরবেইনা কেন?এতো প্রিয় বান্ধুবীকে পেয়েছি কতো বছর পর(আরহান)।
-হ্যা মাহিরা জানো তোমার বর রোমিও ছিলো কলেজে(অনামিকা)
-মিথ্যা হাসি দিলো মাহিরা।স্যার এবার চলুন।ইনায়ার খিদে পেয়েছে(মাহিরা)।
-ওহ চলো।অনামিকা তুমি আসছোনা কেন?
-আজ না আরহান(অনামিকা)।
-আরে চলো তো।অনামিকার হাত ধরে টেনে ক্যান্টিনে নিয়ে যেতে লাগলো আরহান।
-ইনায়া চলো মা ক্যান্টিনে যাই(আরহানের দিকে ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে)।
-Something is burning Mahira(ঐশি)
-কিছু হচ্ছেনা।চলো(রাগী গলায়)(মাহিরা)
-ওকে ওকে চলো।ক্যান্টিনে যেয়ে দেখি আরহান অনামিকা পাশে পাশে বসে গল্প করছে।খাবার কিনে ওদের সামনে যেয়ে বসলাম ইনায়াকে নিয়ে। ইনায়া কে খাওয়াচ্ছি আর ওদের দেখছি।(খাওয়ার সময় এতো কিসের কথা?)(মাহিরা)
-আরহানের কানের সামনে মুখ নিলো অনামিকা(আরহান তোর বৌ জেলাস ফিল করছে)।
-কানে কানে কি বললো এই মেয়ে?আর কিছু ভাবতে পারলো না মাহিরা ঞ্জানে হারিয়ে ফেলল।
-মাহিরা বলে চিৎকার করলো আরহান।
-মাম্মা(ইনায়া)
-আরহান পানি দে(অনামিকা)।
-হুম। মাহিরার মাথাটা কোলে রেখে মুখে পানি ছিটালো আরহান।
-আস্তে আস্তে চোখ খুলে নিজেকে আরহানের কোলে অাবিষ্কার করলো মাহিরা।আরহান ভ্রু কুঁচকে ওর দিকে তাকিয়ে আছে।দ্রুত উঠে বসে পড়লো।কি হয়েছিলো?
-তুমি সেন্সলেস হয়ে গিয়েছিলে।শরীর খারাপ লাগলে আগে বলবেনা?(আরহান)
-না আমি ঠিক আছি(মাহিরা)।
-আরহান আমি আসি দোস্ত(অনামিকা)
-ওকে বায়।(আরহান)
-খেয়ে নাও মাহিরা।
-হুম।অফিস শেষে বাড়ি ফিরে এলাম।(সারাদিন মাথায় ঘুরছিলো অনামিকা আরহানের কানে কি বলল?আরহান তো কখনো মাহিরার সাথে এতো হেসে হেসে কথা বলেনি?তাহলে আজ অনামিকার সাথে এতো হাসাহাসি করছিলো কেন?)আমি কেন এসব ভাবছি?
-মাহিরা জেগে আছো?(আরহান)
-জি বলুন?
-চলো ছাদে যাই।সাথে এক কাপ গরম কফি হলে ভালো হয়(আরহান)
-অন্যসময় অন্যরকম লাগলে ও আজ স্বেচ্ছায় আরহানের সাথে কফি নিয়ে ছাদে এলো মাহিরা।দুজনে পাশাপাশি দোলনায় বসলো।আজ প্রথম মাহিরা নিজ থেকেই কথা শুরু করলো আরহান?
-হুম(মাহিরার দিকে তাকিয়ে)
-রাঙ্গামাটি তে মজা হয়েছিলো তাইনা?(মাহিরা)
-হুম।আবার যেতে চাইলে নিয়ে যাবো।মুচকি হাসলো আরহান।
-আপনি লন্ডন কত বছর ছিলেন?
-৩বছর(আরহান)
-ওহ।(মাহিরা কি কথা বলবে বুঝতে পারছেনা।)মা বাবা কে দাওয়াত দেই বাসায়।
-তুমি চাইলে দিবো।
-আবার চুপ হয়ে গেল দুজন।আরহান........হাত দিয়ে থামিয়ে দিলো।
-ওয়েট অনামিকা কল করেছে।ফোন কানে নিয়ে আরহান রেলিং এর কাছে চলে গেল।
-(অনামিকার সাথে কথা বলতে হইলে আমাকে ডাকার কি ছিলো যত্তসব)রুমে এসে ইনায়াকে জড়িয়ে শুয়ে পড়লো মাহিরা।
-২মিনিট কথা বলে পিছনে তাকিয়ে দেখি মাহিরা নেই।চলে গেল কেন এই মেয়ে?হয়ত ঘুম পেয়েছে তাই চলে গেল।নিচে চলে এলো আরহান।আজ আর রুমে না গিয়ে মাহিরার রুমে একটি চেয়ারে ল্যাপটপ নিয়ে কাজ করতে বসলো আরহান।মাহিরা কে আড় চোখে দেখছে আরহান।নেশা লাগানো চেহারা মাহিরার।বাহিরের বাতাসে ওর মুখের ওপর থেকে চুল গুলো সরে যাচ্ছে।খাটে গিয়ে বসলাম মাহিরার পাশে।আলতো হাতে ঠোঁটের ওপরের চুল গুলো সরিয়ে দিয়ে গালে আলতো করে ঠোঁট ছোয়ালো আরহান।জামার হাতাটা কাঁধ থেকে সরে গেছে।সেখানে চুমো দিয়ে হাত ঠিক করে কম্বল টা গায়ে জড়িয়ে নিজের জায়গায় এসে বসলো আরহান।সারারাত শুধু লুকিয়ে লুকিয়ে মাহিরা কে দেখেছে আর মনে মনে হেসেছে আরহান।
-ঘুম ভেঙ্গে সামনে তাকিয়ে দেখি আরহান চেয়ারে বসে ঘুমোচ্ছে ল্যাপটপ কোলে রেখে।(সারারাত কি এখানে ছিলেন নাকি?)ফ্রেশ হয়ে নিচে গিয়ে নাস্তা বানানোয় মন দিলাম।(এতো রাতে কল করেছিলো কেন অনামিকা?)কিসের এতো কথা?
-মাম্মা গুড মর্নিং (জড়িয়ে ধরলো মাহিরা)
-গুড মর্নিং মামনি।পাপা ব্রাশ করেছো?
-হ্যা......।
-দাঁত দেখা ও দেখি?(ওর সামনে বসলাম)
-ইইইই।
-বাহ অনেক সুন্দর হয়েছে।পাপা উঠেছে?
-হ্যা।ওখানে দেখো(সিড়ির দিকে দেখিয়ে)
-আরহান ঘাড়ে হাত দিয়ে নামছে।
-তুমি বসো।মাম্মা নাস্তা আনছি।
-ওকে.......।
-পাকঘরের কাছে এসে দাড়ালো আরহান।মাথা সোজা করে রেখেছে একে বারে।নাড়ছে ও না।একটু গরম পানি দিও তো মাহিরা।মাথা সোজা করে টেবিলে বসলো আরহান।
চলবে

[END_OF_STORY]

দ্বিধা
তাবাস্সুম রিয়ানা
২৯
-একপাশে নদী অপরপাশে পাহাড় আর মাঝে রাস্তা।আরহান মাহিরা আর ইনায়া হাঁটছে সেই রাস্তা ধরে।ইনায়ার খুব আনন্দ হচ্ছে কারন সে এমন পরিবেশের সাথে পরিচিত নয়।মাহিরা!
-বলুন।
-বাঁশের ব্রিজটাতে উঠবে?
-উঠা যায়।চলুন ওপাশে যাই(মাহিরা)
-না পাপা(ইনায়া)
-কেন মামনি?
-ভয় লাগে।
-আরে আমরা আছি না?তোমার মাম্মার আর আমার হাত ধরো।দুটো বাঁশকে জোড়া লাগিয়ে ব্রিজটি বানানো হয়েছে।ইনায়ার এক হাত ধরে ব্রিজ পার করে দিলাম।ভশ পেয়েছো ইনায়া?
-না পাপা।
-এখন চলো সামনে যাই।
-ভাইয়া ভাবি আপনাদের একটা ছবি তুলে দিতে চাই।এক যুবক মাহিরা আরহান কে দাড় করালো।ভালো ঘরের মনে হচ্ছে।
-না আমরা ছবি তুলবো না(আরহান)
-আপনাদের জুটি অনেক পছন্দ হয়েছে আমার।প্লিজ ছবি তুলতে দিন।
-মাহিরার দিকে তাকালাম ওকি চাচ্ছে?
-ভাবি রাজি হন(ছেলেটি মাহিরাকে জোর করতে লাগলো)
-আচ্ছা চলুন।ইনায়াকে নিয়ে কিছু ছবি তুলে নিলাম।
-এবার আপনারা একসাথে দাড়ান(ছেলেটি)বাবুকে ছাড়া।
-দরকার নেই(মাহিরা)
-মাহিরা এক দুটো তুললে কি এমন হয়ে যাবে চলো(আরহান)
-ওকে।
-ভাবির কাঁধে হাত রাখেন।
-লাগবেনা। ছবি তুলো।
-আচ্ছা।
-তবু ও আরহান আস্তে করে মাহিরার কাঁধে হাত রাখলো।কতো নিবে তুমি?
-টাকা লাগবেনা ভাইয়া(ছেলেটি)
-তো??
-দোয়া করে দিন সামনে আমার এইচএসসি পরীক্ষা।
-ওহ।ভালোমতো পরীক্ষা দিও।এই টাকাটা নাও।ভাইয়ার দোয়া হিসেবে।প্রথমে না করলে ও পরে নিয়ে নিলো ছেলেটি।
-আপনাদের ছবি গুলো দেই।ছবি গুলো তুলতেই বেরিয়ে এসেছিলো ক্যামেরার ভিতর থেকে।ছবি গুলো আরহান কে দিলো।
-বাহ সুন্দর হয়েছে ছবি গুলো(আরহান)।
-আপনাদের কাপল টা একদম পার্ফেক্ট।আসি তাহলে।
-ওকে বায়।মাহিরা ছবি গুলো ব্যাগে ঢুকিয়ে নাও।
-ছবি গুলো হাতে নিয়ে দেখি বেশ সুন্দর হয়েছে ছবি গুলো।ব্যাগে ঢুকিয়ে নিলাম।আরো কিছুক্ষণ ঘুরে হোটেলে ফিরে এলাম।ইনায়া কার সাথে ঘুমাবে?
-মাম্মার সাথে না পাপার সাথে না মাম্ম কার সাথে ঘুমাবো?
-তুমি ঠিক করো ইনায়া(আরহান)
-মাহিরা আরহানের হাত ধরে খাটে বসিয়ে দিলো ইনায়া।মাঝখানে শুবো তোমাদের।
-না ইনায়া আমি এখানে ঘুমাবো না(মাহিরা)
-প্লিজ মাম্মা!!!!
-ইনায়া!!!!কথা শুনো মামনি(মাহিরা)।
-মাহি ও ঘুমিয়ে যাক পরে চলে যেও মাহিরার কানে ফিসফিসিয়ে বলল আরহান।
-(ওনি আমাকে মাহি বলে ডাকলেন)?ওকে শুয়ে পড়ো মামনি।
-পাপা মাম্মার কানে কি বলেছো?(রয়গী চোখে)
-ও কিছুনা মামনি ঘুমাও।
-ইনায়া শুয়ে মাহিরা আর আরহানের হাত ধরে বুকের ওপর রাখলো।
-দুষ্ট মেয়ে।মুচকি হাসলো মাহিরা।
-মাহিরা(ফিসফিসিয়ে)
-কি???
-ইনায়া ঘুমিয়ে গেছে।(প্লিজ যেওনা মাহিরা)(আরহান)
-তাহলে আমি যাই(ফিসফিস করে)
-ওকে(কিছুটা মন খারাপ করে)
-হাত সরাতেই ইনায়া উঠে গেল।মাম্মা কই যাও?
-কোথা ও না। আমি আছি(মাহিরা)।ঘুমাও।
-না তুমি চলে যাবা।
-ওকে জড়িয়ে ধরে বললাম মাম্মা কোথা ও যাবোনা। ঘুমাও।
-প্রমিজ?
-পাক্কা প্রমিজ ঘুমাও।
-আরহান হাসছে ওদের দুষ্টমি দেখে।
চলবে
#দ্বিধা
তাবাস্সুম রিয়ানা
৩০
-ইনায়া ঘুমিয়ে পড়ে মাহিরার হাত ধরে।আজ আরহানের খুশি লাগছে মাহিরা কাছে থাকায়।মাহিরা ঘুমিয়ে গেছে।আরহান পলকহীন ভাবে দেখছে ওকে।আলতো হাতে মাহিরার গাল ছুয়ে দিলো আরহান।ওর গালে চুমো দিয়ে চোখ বন্ধ করে ফেলে কারন মাহিরা জেগে গিয়েছে।
-গালে হাত দিয়ে কি হলো এটা(ঘুম ঘুম চোখে)?খেয়াল করলো আরহান আর ইনায়া ঘুমাচ্ছে তাহলে ওকে চুমো দিলো কে?স্বপ্ন হবে মাহিরা ঘুমিয়ে যা।পরদিন সকালে রওনা হতে হবে ঢাকার উদ্দেশ্যে কারন আমাদের অফিস আর ইনায়ার স্কুল মিস যাচ্ছে।
-পাপা প্লিজ আরো কয়দিন থাকিনা?
-না ইনায়া পাপার অফিস আছে তোমার স্কুল আছে আর থাকবোনা আমরা(চুল আচড়াতে আচড়াতে বলল)
-মন খারাপ হয়ে গেল ইনায়ার।
-ইনায়া আসো রেডি করে দেই(মাহিরা)।ওকে রেডি করাতে লাগলাম।আরহান!!!!
-বলো!
-আপনিকি কাল রাতে জেগেছিলেন?
-কেন বলো তো?
-না এমনেই।মনে হয়েছিল কিছু যেন হলো তাই আর কি।
-আরে না না আমি তো অনেক আগে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম।
-ঢাকায় পৌছানোর আগেই মা বাবা ফোনে বলে দিয়েছিলেন ওনাদের সাথে যেন ডিনার করি।মা বাবার বাসায় এলাম তিনজনে(আরহান)।
-আজ বৌমা প্রথম শ্বশুর বাড়িতে এসেছে।আরহানের মা জড়িয়ে ধরলেন মাহিরাকে।কেমন আছিস বৌমা?
-জি মা ভালো।
-দাদু আমাকে আদর করবেনা?
-করবোনা আবার?ইনায়াকে কোলে তুলে নেন আরহানের মা।গালে চুমো দিয়ে বললেন এইযে আদর করেছি।
-মাহিরা ভিতরে আসো(আরহান)
-হুম।সবাই সোফার রুমে এসে বসে পড়লাম।হালকা নাস্তা পানীয় খাওয়ার পর ডিনার করলাম।
-বৌমা আমার সাথে আয়।
-ওনি আমাকে আরহানের রুমে নিয়ে গেলেন।সেখানে একটি বাচ্চার বিভিন্ন বয়সের ছবি ঝোলানো আছে।কি কিউট তো বাচ্চাটা একদম গুলুগুলু।ইসস কাছে পেলে কোলে নিতে পারতাম।
-কোন বাচ্চার কথা বলছিস বৌমা?
-এই যে ছবির বাচ্চাটা।অনেক কিউট ।কে ও?
-আরে এতো তোর বর আমাদের আরহান।
-আরহানের নাম শুনে লজ্জা পেয়ে গেলো মাহিরা।কি কি বলছিলো এতক্ষন।কোলে নিয়ে আদর দিতে চেয়েছে ছিঃছিঃ কি লজ্জা!!!!!মাহিরার মুখ লাল হয়ে গেল।
-ওকে কোথা ও রাখতে পারতামনা।প্রতিবেশী ভাবিরা প্রায়ই ওকে নিয়ে চলে যেতো।একবার তো আমি কেঁদেই দিয়েছিলাম।কোথা ও পাচ্ছিলাম না।শেষমেষ বাড়িওয়ালা ভাই ওকে দিয়ে যায় বাসায়।
-ওহ।
-তো কেমন মজা করলি রাঙ্গামাটিতে?
-ভালোই মজা করলাম।
-মাহিরা বাসায় চলো(আরহান)
-আরহান দাড়া!
-জি মা?
-ইনায়ার খেলার সাথী আনবি কবে?
-আরহান মাহিরা দুজনেই লজ্জা পেয়ে যায়।কেউ কারোর দিকে তাকাতে পারছেনা।
-কিরে কিছু জিঞ্জেস করলাম।একজন তো জবাব দে।মাহিরা তুইই বল।বলনা।
-(ও আল্লাহ কোন বিপদে ফেললা?)খুব জলদি বলেই জিহ্বায় কামড় দিলো মাহিরা।
-আরহান অবাক চোখে মাহিরার দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে।নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছেনা আরহান।
-দেখেছিস আমার বৌমা কতো ভালো।শোন মাহিরা খুব জলদি তোর কোলে ফুটফুটে একটা বাবু চাই।
-(আল্লাহ মাটিটা ফাঁকা হয়ে গেলে ঢুকে যেতে পারতাম)আমরা আসি মা(মাথা নিচু করে)
-ইনায়াকে নিয়ে ঘরে ফিরে এলাম।ইনায়া ঘুমিয়ে পড়ো মামনি সকাল স্কুল আছেনা?
-জি পাপা।
-মাহিরা ইনায়াকে ঘুম পাড়িয়ে দিচ্ছে।
-এখন ঘুমিয়ে পড়বে?(আরহান)
-জি।
-বেশি ঘুম পাচ্ছে?(আরহান)
-কেন বলুন তো?
-না মানে...
-দেখুন আপনি জানেন বিয়েটা হয়েছে শুধু ইনায়ার জন্য।সুতরাং আমি শুধু ইনায়ার মা অন্য কিছু নই।আর আপনার মাকে যা বলেছি সেটা ছিল ওনার মন রক্ষার্থে।
-মাহিরার কথা কথা শুনে আরহানের হৃদয় যেন চুড়মাচুড় হয়ে গেল। না আমি তো বলতে চাচ্ছিলাম কালকে আদালতে যাবো সেটার কথা।
-আরহানের কথা শুনে মাহিরা চুপসে গেল।না বুঝে কতোকিছু বলে ফেলেছে।
-যাও ঘুমাও(আরহান)
-হুম।নিজের রুমে চলে এলাম।
-সকালে ইনায়াকে স্কুলে দিয়ে আদালতে চলে এলাম।আশফি বসে আছে একটি চেয়ারে।হায় আশফি!!!
-হায় দোস্ত ভালো আছিস?
-হুম ভালো।
-ভাবি কেমন আছেন?
-এইতো।
-মাহিরার থেকে চোখ সরিয়ে আরহানের দিকে তাকালো আশফি।তো কি সাহায্য করতে পারি?
-ঐযে বলেছিলাম না নীলের কথা?
-হ্যা বলেছিলি।
-ওকে এমন শাস্তি দিতে চাই।যেটা ও সারাজীবন মনে রাখবে(দাঁতে দাঁত চেপে বলল আরহান)
-ওর বাসা কই(আশফি)?
-বাসার ঠিকানা দিয়ে বেরিয়ে এলাম আমি আর আরহান।কয়েকজন পুলিশ আমাদের সাথে থাকবেন।আরহান সকাল থেকে কোন কথা বলেননি।পুলিশদের সাথে যেয়ে ইনায়াকে নিয়ে বাসায় গেলাম।আরহান কফি দিবো?
-.......
-আমি কিছু বলছি আরহান।
-দেখতে পাচ্ছোনা কাজ করছি।এতো কথা বলছো কেন?আমার কোন কফি লাগবেনা(রাগী গলায়)
-মাহিরার চোখে পানি চলে এলো।ইনায়া খেলছে ওর পাশে গিয়ে কম্বল মুড়ি দিয়ে শুয়ে কাঁদতে লাগলো নিঃশব্দে।
চলবে
#দ্বিধা
তাবাস্সুম রিয়ানা
৩১
-মাম্মা!!!! মাম্মা!!!!
-কি হলো ইনায়া (কম্বলের নিচ থেকে)
-খিদে পেয়েছে।
-কম্বল সরিয়ে উঠে পড়লো মাহিরা।
-উফ মাথায় ভীষন ব্যাথা করছে।এক হাতে কপাল টিপছে আরহান।
-পাকঘরে এসে ইনায়ার খাবার রেডি করে কফি বানিয়ে নিলাম।
-হঠাৎ নাকে কফির গন্ধ আসায় পাশে তাকিয়ে দেখি টেবিলের ওপর ধোঁয়া উঠা গরম কফি।কখন দিয়ে গেল?কফিটা খেয়ে নিয়ে কাজে মন দিলাম।
-ইনায়া হা করো মা(মাহিরা)
-মাম্মা তুমি কেঁদেছো?
-না মামনি?
-মিথ্যে বলছো কেন?তোমার চোখ লাল হয়ে গেছে।
-না ইনায়া চোখে কি যেন পড়েছিলো তাই এমন দেখাচ্ছে।
-রুমে এসে দেখি মাহিরা ইনায়াকে খাওয়াচ্ছে।ওর চোখ দুটো লাল হয়ে গেছে।নিশ্চয় কেঁদেছে।এভাবে ধমক দেয়া ঠিক হয়নি।
-আরহানের উপস্থিতি বুঝতে পেরে দ্রুত রুম থেকে বেরুতে যাবো তখনই হাত ধরে ফেললেন ওনি।
-মাহিরা!!!
-ওনার হাত ছাড়িয়ে আমার রুমে এসে দরজা আটকাতে যাবো তখনই ওনি আটকালেন।
-কথা শুনো
-আরহান প্লিজ ভালো লাগছেনা।
-মাহিরা একটা বার কথা শুনো আমার।
-কি বলতে চান বলুন।দরজা খুলবোনা।
-আরহানের ভীষন রাগ হচ্ছে।জোরে ধাক্কা দিতেই মাহিরা পড়ে গেল।
-আহ!!!ব্যাথায় কাতরিয়ে উঠলো মাহিরা।
-মাহিরা আ'ম সরি।ওকে কোলে তুলে নিলাম।মাফ করে দাও আমাকে।খাটে শুইয়ে দিলাম।কোমড়ে ব্যাথা পেয়েছো?
-হুম আহ!!!!
-ওকে ধরে উল্টো করে শুইয়ে দিলাম।
-আরহান কি করছেন কি?
-শশশশশশ ব্যাথ আমি দিয়েছি কমাবো ও আমি।আলতো হাতে ওর কোমড় চাপতে লাগলাম।
-ব্যাথা ভুলে মাহিরা লজ্জায় লাল হয়ে গেল।
-মাহিরা মাফ করে দিও আমায় প্লিজ।
-ইটস ওকে।
-নিজের অজান্তেই ওর কাঁধে চুমো দিলাম।
-ওনার হাত চেপে ধরে রেখেছি।পুরো শরীর কেঁপে উঠলো।ওলনা পারছি সরাতে না পারছি কাছে টানতে।বুক ধুকপুক করছে।
-পাপা!!!!!
-ইনায়ার ডাক শুনে আরহান মাহিরা দরজার দিকে তাকালো।(কি করছিলি আরহান?)কি হয়েছে মামনি?
-তোমরা কি করছিলে?
-কই মামনি কিছুনা(আরহান)।
-ওহ।মাম্মা তোমার ফোন(মাহিরার ফোনে এতসময় ধরে গেমস খেলছিলো ইনায়া)
-হাত বাড়িয়ে ফোনটি নিলাম।আপনি চলে যান আরহান।
-হু???(আরহান)
-হু কি যেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন সকালে অফিস আছে।
-আ'ম সরি।আসলে তখন কি করতে যাচ্ছিলাম বুঝতে পারিনি(আরহান)।
-ইটস ওকে।ওনি চলে গেলেন।কাথা জড়িয়ে ঘুমিয়ে গেলাম।
-পরদিন সকালে পুলিশদের সাহায্যে ইনায়াকে স্কুলে পাঠালাম।ঠিক হলো ওনারা ঐখানে থাকবেন ইনায়ার স্কুল ছুটি হওয়া পর্যন্ত।মাহি কে নিয়ে অফিসে রওনা দিলাম। পুরো দিন কেউ কারোর সাথে কথা বলিনি।মাহি নিজের জায়গায় বসে পড়লো।আমি কেবিনে চলে এলাম।
-হায় মাহি(নিদ)
-হ্যালো(মাহি)
-মিসেস মাহিরা আরহান শেখ হানিমুন কেমন কাঁটলো?
-নিদ আস্তে কথা বলো।স্যার শুনলে রাগ করবেন(মাহিরা)
-স্যরি(কান ধরে)
-মাফ করলাম।যেয়ে নিজের কাজ করো।
-মাহি!!!! মাহি!!!!!(আরহান)
-মিসেসের ডাক পড়ে গেছে।শুনে আসুন আপনার স্বামী কি বলতে চায়।(নিদ)
-নিদ তুমি ও না পারো ও বটে।জি বলুন।
-এই ফাইলটা চেক করে আনো। কোথা ও কোন ভুল যেন না পাই। আর পুলিশ কিছুক্ষণ পর ইনায়া কে নিয়ে আসবে।
-ওকে।আমি আছি টেনশন করবেন না।
-হুম(আরহান)
-ফাইলটি নিয়ে নিজের জায়গায় বসে কাজ করতে লাগলো মাহিরা।
-মাম্মা(ইনায়া)
-মামনি চলে এসেছো?ইনায়া দৌড়ে এসে মাহিরার পাশে বসে জড়িয়ে ধরলো মাহিরা কে।
-কোন ফ্রেন্ড হলো আমার মেয়েটার?(মাহিরা)
-হ্যা অনেক গুলো অনিক, হৃদি,হাফিস।
-আর হয়নি(মাহিরা)?
-না মাম্মা(মন খারাপ করে)
-মন খারাপ করোনা।আরো অনেক ফ্রেন্ড হবে আমার মেয়ের।হঠাৎ সর্ট স্কার্ট পরিহিত একটি মেয়ে দৌড়ে আরহানের রুমে ঢুকে গেলো।
-এসেছে ঢঙ্গী হুহ(ঐশি)
-কে ও?(মাহিরা)
-স্যারের কলেজ ফ্রেন্ড।কি যে ন্যাকামি করে বিশ্বাস করবানা?(ঐশি)
-ফাইল দিতে গিয়ে দেখি মেয়েটা আরহানকে জড়িয়ে ধরেছে।
-দরজা খোলার শব্দ পেয়ে আরহান দেখে মাহিরা চলে যাচ্ছে।মাহিরা!!!!
-জজজি স্যার।
-আসো ভিতরে।
-আরহান এ কেমন এম্পলয়ি রেখেছো কোনো ম্যানার্স জানেনা।বসের রুমে নক করে আসতে হয় সেটা জানোনা?
-অনামিকা চুপ থাকো এসব আজে বাজে কি বলছো।তুমি জানো না ওকে।(আরহান)
-কে ও?
-মিসেস আরহান শেখ।
-তোমার ওয়াইয়ফ??I'm really very sorry mahira.বুঝতে পারিনি।
-ইটস ওকে।আরহানের টেবিলে ফাইল রেখে চলে এলাম।
-মিসেস রাগ করেছে আরহান(অনামিকা)
-না করেনি(আরহান)
-আশ্চর্য তোমাকে জড়িয়ে ধরেছিলাম ও রাগ করেনি না?
-করেনি(আরহান)